নিজস্ব প্রতিবেদক
সৌদি আরবে ইরানের মিসাইল হামলায় টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার মোশাররফ হোসেন (৪০) নামের এক প্রবাসী নিহত হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যায় সৌদি আরবের আল খারিজ শহরের আল- তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির ক্যাম্পে ইরানের মিসাইল হামলায় তিনি নিহত হন।
তার বাড়ি সখীপুর উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্ত্তনখোলা গ্রামে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী ও নিহত মোশারফের চাচাত ভাই মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, সৌদি আরব আল খারিজ শহরের আল-তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানিতে পরিছন্নতা কর্মীর কাজ করতেন মোশারফ।
রোববার ইফতারের আগ মুহূর্তে সবাই যখন ইফতারের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত ঠিক তখন একটি মিসাইল হামলার শিকার হয় তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির ওই ক্যাম্প। আর ঘটনাস্থলেই নিহত হন মোশারফ।
সখীপুর উপজেলার কীর্ত্তন খোলা গ্রামের মোশারফের বাড়ি বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, ওই গ্রামের মো. সূর্যত আলীর একমাত্র ছেলে মোশারফ হোসেন অভাবের সংসারে একটু স্বচ্ছলতা ফেরাতে ৮ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন । আল খারিজ শহরের পাশে একটি কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ নেন তিনি। তার স্ত্রী ও দুইটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে মাহিম স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং ছোট ছেলে মিহান প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। তিন বছর আগে তিন মাসের জন্য ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি।
গতকালও পরিবারের সাথে দুর্ঘটনার আগে মুঠোফোনে কথা হয়েছিল পরিবারের সাথে। স্ত্রী কবরী আক্তার জানান, বলেছিলো ঈদের জন্য টাকা পাঠাবেন, ছেলে দুটির জন্য কিছু কিনতে। কিন্তু কে জানতো সেই কথাই হবে শেষ কথা।
রাত প্রায় ৩টার দিকে খবর আসে—মোশাররফ হোসেন আর নেই। এই সংবাদ শোনার পর থেকেই শোকে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। মা জহুরা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। মোশারফের বড় ছেলে মাহিম বলেন, রাতে বাবার সাথে ফোনে কথা হয়েছে বাবা জিজ্ঞাসা করলেন ঈদের জন্য কিছু কিনেছি কি-না। তিনি বলেন, আমেরিকা-ইসরাইলের সাথে ইরানের এই যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ করা হোক এভাবে যেন আর কোন মায়ের বুক খালি না হয়।
এঘটনায় ভিডিও কনফারেন্সে ওই পরিবারের সাথে কথা বলেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. আহমেদ আযম খান। তিনি পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং ওই পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
এদিকে সোমবার সকালে মোশারফের বাড়িতে ছুটে গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল রনী। তিনি জানান, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত লাশ দেশে আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।